শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে বিএনপির কর্মী সমাবেশ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল কর্মী সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরী সমর্থিত আব্দুল কুদ্দুছ ও বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি মাম্যাচিং। উভয় পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে সমাবেশের ঘোষনা দিলেও দুই পক্ষই অতিথি হিসেবে প্রচার করছে একই নেতৃবৃন্দের নাম। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে কর্মী সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন জেলা বিএনপির সভানেত্রী মাম্যাচিং।
অপরদিকে শহরের চৌধুরী মার্কেট এলাকায় কর্মী সমাবেশের জন্য আবেদন করেন বিএনপির সাচিং প্রু জেরীর অনুসারি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস।
তবে এখনো পর্যন্ত কোন পক্ষই কর্মী সমাবেশ করার অনুমতি পাননি বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে দুটি আবেদন পড়ায় সমাবেশের অনুমতি দিতে গিয়ে প্রশাসনও পড়েছে বিপাকে। জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক অবস্থা গতিশীল করতে সাচিং প্রু জেরী সমর্থিত বান্দরবান বিএনপির একাংশ কয়েকদিন পূর্বে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সাথে দেখা করে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে সমন্বয়ক করে ২৮ এপ্রিল কর্মী সমাবেশের ঘোষনা দেয়া হয়। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিও শুরু করে জেরী সমর্থিত বিএনপির সদস্যরা।
জেরী সমর্থিত জেলা বিএনপির নেতা মজিবুর রশিদ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতার নির্দেশেই কর্মী সমাবেশের আয়োজন করছি এবং কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের কর্মী সমাবেশে আসবেন। সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। এখন শুধু প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষায়। আমাদের সমাবেশে সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি সবার অংশগ্রহণে কর্মী সমাবেশ সফল হবে।
এর আগে বিএনপির মাম্যাচিং গ্রুপের নেতা কর্মীরা নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সাথে দেখা করে তাদের দাবি দাওয়ার কথা তুলে ধরেন। তারা দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বান্দরবানেও কর্মী সমাবেশের আয়োজন করার কথা বলেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৮ এপ্রিল শনিবার বান্দরবানে কর্মী সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথাও বলা হয়। সে লক্ষ্যে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মিলনায়তনে কর্মী সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন ও করা হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা বলেন, সারা দেশের ন্যায় বান্দরবানেও আমরা কর্মী সমাবেশের আয়োজন করেছি। এতে কেন্দ্রীয় নেতারাও আসবেন। আমাদের কর্মী সমাবেশকে বানচাল করার জন্য বিএনপির কিছু বিদ্রোহী নেতা ষড়যন্ত্র করছে। তারা অতীতেও দলের সাথে বেঈমানী করেছে এবং বর্তমানেও সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা দলের দূর্দিনে এসব চক্রান্ত করছে।
তবে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কর্মী সমাবেশ সফল করতে উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিলেও বান্দরবান বিএনপিতে দুটি গ্রুপ থাকায় কর্মী সমাবেশ কারা আয়োজন করবে তা নিয়ে মূলত এ মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এদিকে কর্মী সমাবেশকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বে কারণে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষই কর্মী সমাবেশ করতে পারবে না। তারা আরো বলেন, কর্মী সমাবেশের আয়োজন না করে উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বের অবসানের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া জরুরী।
উল্লেখ্য, নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবান বিএনপিতে সাচিং প্রু জেরী ও মাম্যাচিং এর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কেন্দ্রীয় নেতারা বেশ কয়েক দফা এ বিরোধ মিটানোর উদ্যোগ নিলেও তার কোন সমাধান হয়নি।
–